বড়লোক (ধনী) হওয়ার 4 টি স্মার্ট উপায়

নতুন কোনো মোবাইল, বাইক, গাড়ি ইত্যাদি শখ পূরণ করার কোনো জিনিস কেনার আগে নিজে কি কখনো জিজ্ঞাসা করেছেন এই জিনিসটা আমার কি সত্যিই দরকার। না আপনার আশেপাশের লোকেদের বা বন্ধুদের দেখাদেখি আপনিও নতুন কোনো কিছু কিনে ফেলেন। আপনাকে একটা কথা জানিয়ে রাখি, পৃথিবীর সবথেকে বুদ্ধিমান লোকেও তাদের টাকা পয়সার সাথে বোকামির মতো কাজ করে থাকে।

সেটা অনিচ্ছাকৃত খরচ হোক বা ছোটখাটো বিভিন্ন খরচের ক্ষেত্রেও তারা এমনটা করে। আর যখন তারা তাদের টাকা কোথায় খরচ হলো এমন চিন্তা করে তখন শেষে তারা বুঝে উঠতে পারে না যে ঠিক কোন কোন জায়গায় টাকা খরচ হল। অর্থাৎ তারা খরচের সঠিক হিসাব মেলাতে পারে না।

এমন করেই তাদের পরিশ্রমের মাধ্যমে ইনকাম করা টাকার একটা বড় অংশ ফালতু খরচের খাতায় চলে যায়। আজকের এই প্রতিবেদনের মাধ্যমে আমরা আমার চারটি স্মার্ট উপায় এর কথা বলব যেগুলি মেনে চলতে পারলে আপনিও বড়লোক হতে পারবেন।

four-smart-ways-to-get-rich

আমরা খুব সাধারন কয়েকটি বিষয় সম্পর্কে আলোচনা করেছি যেগুলি মাথায় রাখলে আপনার ফালতু খরচ হবে না এবং খুব কম সময়ের মধ্যে আপনি প্রচুর টাকার মালিক হবেন। এর জন্য আপনার নিয়মিত নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা ইনকাম থাকা আবশ্যক।

ধনী হওয়ার জন্য চারটি স্মার্ট উপায়

বাঁচানো টাকা দিয়েই আপনি একসময়ের বড়লোক হতে পারেন। এই কথাটা আমরা সকলেই জানে, কিন্তু মানি না। তাই আজকে থেকেই কোনো কিছু কেনার আগে আপনি নিজেকে প্রশ্ন করবেন এই জিনিসটা কি আমার সত্যি দরকার। এই প্রশ্নের তৎক্ষণাৎ উত্তর যদি ‘না’ আসে তাহলে ওই জিনিসটি কেনা থেকে নিজেকে বিরত রাখুন।

আপনার বন্ধু, পাড়া-প্রতিবেশী, সহকর্মীর মধ্যে কেউ সৌখিন জিনিস কিনে তাদের স্ট্যাটাস কে প্রদর্শন করে। আপনি দয়া করে তাদের মত করবেন না। এতে আপনি ফালতু টাকা নষ্ট করবেন। লোক দেখানোর জন্য নিজের টাকাকে খরচ করা বোকামি ছাড়া আর কিছুই না। এতে আপনি সমস্যায় পড়বেন।

মনে রাখবেন, হঠাৎ করে আপনার টাকার খুবই প্রয়োজন হলে আপনার প্রতিবেশী, সহকর্মী বা বন্ধু-বান্ধবদের সকলে কিন্তু আপনার সাহায্য করতে আসবেনা। কথাটা মনে রাখা জরুরি। এমারজেন্সি টাকার দরকার হলে যাতে সেই টাকা আপনি নিজের কাছে থেকেই পেয়ে যান সেইজন্য আপনাকে ধনী হতে হবে। নিচে ধনী হওয়ার 4 টি উপায় এর বিষয়ে জেনে নিন।

1. খরচের বাজেট তৈরি করুন

প্রতি মাসের খরচের একটি বাজেট তৈরি করতে হবে। এই বাজেটের তালিকায় আপনার দৈনন্দিন খরচের হিসাব রাখতে হবে। প্রত্যেক মাসের স্যালারি আসার আগেই বা ইনকামের টাকা আসার আগেই এই বাজেট বানানো দরকার। এমনটা করলে আপনি প্রতি মাসে কিছুটা টাকা বাঁচাতে পারবেন। ফালতু খরচ থেকে বাঁচতে বাজেট তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি।

শুধুমাত্র দরকারি খরচের তালিকা করার কারনে দেখবেন আপনার ফালতু খরচ কমে গেছে এবং আপনিও টাকা বাচাতে পারছেন। যে টাকাটা বাঁচাবেন সেটা প্রতি মাসে নির্দিষ্ট কোনো জায়গায় ইনভেস্ট (Invest) করবেন এবং ইনভেস্ট এর জন্য নিজের উপরে খুশি হবেন।

2. টাকা বাঁচানোর পর তা অবশ্যই ইনভেস্ট করুন

বুদ্ধিমান লোকেরা টাকা বাঁচানোর পর তা সঠিক জায়গায় ইনভেস্ট করে থাকে। আপনি যদি বড়লোক হতে চান তাহলে আপনাকে অবশ্যই টাকা বাঁচাতে হবে এবং তা নির্দিষ্ট জায়গায় প্রতিমাসে ইনভেস্ট করতে হবে। নিয়মিত টাকা ইনভেস্ট করলে আপনার কি লাভ হবে একটি উদাহরনের মাধ্যমে বুঝিয়ে দিই।

ধরুন আপনি প্রতিমাসে 1000 টাকা বাঁচালেন এবং তা কোনো একটি মিচুয়াল ফান্ডে ইনভেস্ট করলেন। এই হিসেব অনুযায়ী 20 বছরের জন্য যদি আপনি প্রতিমাসে 1000 টাকা করে ইনভেস্ট করেন এবং 15% রিটার্ন পান তাহলে কুড়ি বছর পরে আপনি 13 লক্ষ 64 হাজার টাকা পাবেন।

3. ঋণ থেকে বাঁচতে হবে

আমাদের কাছে খরচ করার মতো যখন টাকা থাকে না তখনই আমরা টাকা ধার নিই বা ঋণ করি। আর ঋণ নেওয়ার মানে হল আপনি আপনার ভবিষ্যতের রোজগারের টাকাকে অন্যের কাছ থেকে ধার নিলেন। বর্তমানে ব্যাংক থেকে অথবা কোন ব্যক্তির কাছ থেকে চড়া সুদে টাকা নেওয়ার কারণ হলো আপনার ভবিষ্যতের ইনকাম এবং সম্পত্তি কমে যাওয়া।

এতে আপনার বড়লোক হওয়ার কথা তো দূরে থাক আপনি বর্তমানের থেকে আরও বেশি গরিব হয়ে যাবেন। তাই আমরা প্রায়ই নিউজে দেখতে পাই যে অমুক কোম্পানি Debt বা ঋণের কারণে দেউলিয়া ঘোষিত হয়েছে। তাই ধনী হওয়ার জন্য নিজেকে যতটা সম্ভব ঋণ থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে।

4. নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিল পরিশোধ

আপনি যদি নিজের ইচ্ছা বা অনিচ্ছায় যেকোনো ধরনের বিল দেরি করে দিয়ে থাকেন তাহলে আপনি আপনার অজান্তেই অনেক টাকা লোকসান করছেন। এই বিল পেমেন্ট যদি ক্রেডিট কার্ডের ক্ষেত্রে হয় তাহলে তো খুবই খারাপ ব্যাপার। একটা উদাহরন দিয়ে সঠিক সময়ে বিল জমা না করার লোকসানের বিষয়টা বুঝিয়ে দিই।

ধরুন আপনি আপনার ক্রেডিট কার্ড এবং অন্যান্য বিলগুলি প্রতি মাসেই প্রায়শই দেরি করে দিয়ে থাকেন। এইভাবে হয়ত প্রত্যেক মাসে মোটামুটি 1000 টাকা আপনাকে লেট ফি হিসেবে গুনতে হয়। আপনার মনে হতে পারে এটা আবার কি এমন ব্যাপার। আরোভাবে বুঝিয়ে দি এই বিলের টাকা গুলো সঠিক সময়ে পরিশোধ করলে এবং এই 1000 টাকা প্রতি মাসে জমা করলে আপনার কি লাভ হতো।

ধরুন আপনি প্রতি মাসে 1000 টাকা করে 30 বছরের জন্য জমা করতে থাকলেন। এতে যদি প্রতি বছরে 10% হারে রিটার্ন পাওয়া যায় তাহলে মেয়াদ পূরনের পর কত টাকা আপনি হাতে পাবেন? হিসেব করুন। আমিই বলছি কত টাকা আপনি পাবেন। 30 বছরের শেষে আপনি মোট 22.79 লক্ষ টাকা এককালীন পেয়ে যাবেন। এইবার অবশ্যই আপনি বুঝতে পেরেছেন নিয়মিত টাকা জমানোর লাভ কি।

সবশেষে,

ধনী বা বড়োলোক হওয়ার চারটি স্মার্ট উপায় নিয়ে লেখা আজকের আর্টিকেলটি শেষ হলো। আমি আশা করছি এই লেখা পড়ে আপনি বেশ কিছু বিষয় জানতে পেরেছেন। শেষে আরো একবার একটা কথা বলবো, বড়োলোক হওয়ার জন্য আপনাকে খরচ কমিয়ে তা সঠিক জায়াগায় ইনেভস্ট করতে হবে। আমাদের বলা উপায় গুলি নিজের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করে দেখতে পারেন।

এই সমস্ত উপায়গুলি একদিনে পালন করা সম্ভব না। তবে আপনি প্র্যাকটিস শুরু করলে দেখবেন এগুলো নিজে থেকেই আপনি করতে শুরু করছেন। একটা সময়ে দেখবেন এগুলো করার জঙয় আপনাকে আর বেশি খাটতে হচ্ছে না। তাই এগুলি নিজের জীবনে প্রয়োগ করুন আশা করছি ফলাফল হাতে নাতে পেয়ে যাবেন।

Previous articleঅনলাইনে ব্যবসা কিভাবে শুরু করা যায়? | How to Start Online Business in Bengali
Next articleOLX থেকে প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা কিভাবে ইনকাম করা যাবে?