আমাদের দেশের প্রায় সকলেই ফুচকা খেতে ভালোবাসে। এমন কোন জায়গা নেই যেখানে ফুচকা বিক্রি হয় না। গ্রাম ও শহরের অলিতে গলিতে যেকোনো জায়গায় ফুচকা বিক্রেতা দেখা যায়। অনেকের আবার ফুচকার নাম শুনেই মুখে জল চলে আসে। ছেলেমেয়ে সকলেই ফুচকা পছন্দ করে।
অল্প টাকা বিনিয়োগ করে ফুচকার ব্যবসা শুরু করা যায় এবং এতে ভালো টাকা ইনকাম করা যায়। আর যদি বেশি টাকা লাভ করার ইচ্ছা থাকে তাহলে ফুচকার ব্যবসা বড় করে দেওয়া যেতে পারে। আপনি যদি খুচরো ফুচকা বিক্রি না করে ফুচকার হোলসেলার হিসেবে ফুচকার ব্যবসা করতে পারেন তাহলে এই লাভ আরো বেশি হয়। ফুচকার ব্যবসা কিভাবে শুরু করা যায়? এই সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আজ আপনি জানবেন।
How to Start Fuchka Business In Bengali 2022

ফুচকা তৈরীর উপকরণ
ফুচকা তৈরি করতে অনেক কাঁচামালের প্রয়োজন হয় না। সাধারণত আটা, সুজি এবং জল এ তিনটি জিনিস দিয়ে ফুচকা তৈরি করা যায়। বর্তমানে বাজারে আটার দাম প্রায় 22 টাকা প্রতি কিলোগ্রাম এবং সুজি মোটামুটি 78 টাকা প্রতি কিলোগ্রাম এ পাওয়া যায়।
ফুচকা তৈরীর জন্য মেশিন ও দাম
ফুচকা তৈরীর জন্য দুটি মেশিন এর প্রয়োজন হয়। একটি মেশিনে আটা ভালোভাবে মাখানোর কাজ করে এবং দ্বিতীয় মেশিনে ফুচকা তৈরীর কাজ হয়। ফুচকা তৈরীর জন্য আটা মাখানো মেশিন এর দাম বাজারে প্রায় 27,000 টাকা এবং ফুচকা তৈরির মেশিনের দাম বাজারে প্রায় 55,000 টাকা।
ফুচকা তৈরীর প্রক্রিয়া
ফুচকা তৈরীর সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া নিচে দেওয়া রইল-
- প্রয়োজন অনুসারে আটা এবং সুজি একসঙ্গে মিশিয়ে মিক্সচার মেশিনে এর দিতে হবে।
- এরপর মেশিনটি অন করতে হবে এবং প্রয়োজন অনুসারে কিছু সময় অন্তর অন্তর জল দিতে হবে।
- ধীরে ধীরে আটা ও সুজি এক সঙ্গে মিশে যাবে এবং একসময় শক্ত হয়ে যাবে।
- আটা ঠিকভাবে মাখানো হয়ে গেলে আটার গুলিকে ফুচকা বানানোর মেশিনে ভরতে হবে।
- মেশিনটি চালু করে দিলে ফুচকার আকারে একটা একটা ফুচকা বেরিয়ে আসতে থাকবে।
- এরপর গোল গোল বেরিয়ে আসা ফুচকার আকারের আটা গুলিয়ে তেলে ভেজে নিতে হবে।
ফুচকা তৈরীর ব্যবসার জন্য প্রয়োজনীয় স্থান
ফুচকা তৈরীর মেশিন রাখার জন্য খুব বেশি বড় জায়গার প্রয়োজন হয় না। এর জন্য আপনি আপনার নিজের একটি ঘরেই এই ফুচকা তৈরির ব্যবসা শুরু করতে পারেন। তবে যদি জায়গাটা একটু বড় হয় তাহলে কাজটা ভালো হয়।
ফুচকা তৈরীর ব্যবসার জন্য কত টাকা দরকার
ফুচকা তৈরির ব্যবসা শুরু করতে যদি 4000 টি ফুচকা তৈরীর প্রয়োজন হয়, তাহলে এতে মোটামুটি 38 কিলোগ্রাম সুজির প্রয়োজন। তাছাড়া এতে তেলের দাম, আটার দাম, বিদ্যুৎ খরচ সহ সমস্ত খরচ এক সঙ্গে যোগ করলে মোটামুটি 2500 টাকা খরচ হতে পারে।
ফুচকা তৈরীর সময়
আপনাদের জানিয়ে রাখি মেশিনের মাধ্যমে ফুচকা তৈরি করলে অল্প সময়ে অনেক ফুচকা তৈরি করা যায়। মোটামুটি যদি 4000 ফুচকা তৈরি করা হয় তাহলে তাতে সময় লাগে মাত্র এক ঘণ্টা।
ফুচকা তৈরীর ব্যবসায় লাভ
প্রতি ঘন্টায় যদি 4000 ফুচকা তৈরি করা হয় তাহলে তাতে লাভ থাকে মোটামুটি 800 টাকা। এই হিসেবে যদি প্রতিদিন আট ঘন্টা কাজ করা হয় অর্থাৎ 8 ঘন্টাই মোট 32 হাজার পিস ফুচকায় লাভ হবে প্রায় 6000 টাকা।
ফুচকা বিক্রির সঠিক উপায় এবং জায়গা
আপনার ব্যবসায় তৈরি হওয়া ফুচকা আপনি নিজেই দোকান খুলে বিক্রি করতে পারেন। অথবা বেশ কয়েকটি দোকান বিভিন্ন জায়গায় লাগিয়ে এবং তাতে লোক নিয়োগ করে বিক্রি করাতে পারেন। তবে ফুচকা বিক্রির জন্য সঠিক স্থান নির্বাচন করতে হবে। যেখানে লোকজন বেশি থাকে অর্থাৎ ভিড় বেশি হয় শহরের বা গ্রামের এমন কোন জায়গায়। বিশেষ করে বাসস্ট্যান্ডের কাছে, রেল স্টেশন, স্কুলের বাইরে, কলেজের বাইরে, সিনেমা হল মন্দির ইত্যাদির নিকটে ফুচকা বিক্রি করলে বেশি টাকা ইনকাম করা যায়।