মাসিক 1 লাখ টাকা ইনকাম- এই 5 টি স্কিল (Skill) সম্পর্কে জেনে রাখুন | Top 5 Skill to Earn 1 Lakh per Month

আমরা এমন অনেক কম লোককেই দেখি যারা স্কুল, কলেজের ডিগ্রি করার পরেই কোনো সরকারি বা বেসরকারি কোনো চাকরি পেয়েছে। চাকরি বা যেকোনো জব পেতে হলে ডিগ্রি থাকার পাশাপাশি যেকোনো স্কিল জানাটা বর্তমানে খুবই জরুরী। এই বিষয়টা নিয়ে আমাদের মধ্যে অনেকেই সচেতন না।

তাই আমরা আমাদের ওয়েবসাইট বাংলা রোজগার (banglarojgar.com) এর মাধ্যমে ছাত্র-ছাত্রীদের সচেতন করার জন্য প্রয়াস চালাচ্ছি। আজকের এই প্রতিবেদনে এমন ৫ টি স্কিল সম্পর্কে আলোচনা করা হবে যেগুলির মধ্যে যদি একটিও শিখে নেওয়া যায় তাহলে একটা সময়ে প্রতি মাসে ১ লাখ টাকা ইনকাম করা সম্ভব।

তাই আপনিও যদি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চান তাহলে আজকের বলা ৫ টি স্কিল (Skill) এর মধ্যে যেকোনো একটিকে নির্বাচন করতে পারেন। বন্ধু, ভাই বা দাদা হিসেবে আপনাকে একটা কথাই বলবো, কোন স্কিল আপনি শিখতে চান সেটি আপনার ইন্টারেস্টের ভিত্তিতে নির্বাচন করবেন।

Top 5 Skill to Earn 1 Lakh per Month

যেকোনো একটি বিষয়ে আপনার স্কিল বা দক্ষতা থাকলে আপনার কাজের অভাব হবে না। এটা আমি আপনাকে গ্যারান্টি দিচ্ছি। যেকোনো স্কিল শিখে আপনি চাইলে জব বা চাকরি করতে পারেন, ফ্রিল্যান্সিং করে ইনকাম করতে পারেন এমনকি নিজের স্টার্টআপও শুরু করতে পারেন।

অনেক কথাই বলা হলো, এইবার চলুন আমরা আজকের মেন টপিক শুরু করি। নিচে এক এক করে ৫ টি স্কিল সম্পর্কে জানানো হয়েছে- যেগুলি শিখে নিলেই আপনি প্রতি মাসে ১ লাখ মতো টাকা ইনকাম করে ফেলতে পারবেন।

(1) কপিরাইটিং (Copywriting)

কপিরাইটিং হল কনটেন্ট রাইটিং এরই একটি ভাগ। অ্যাড (Ad) তৈরির ক্ষেত্রে এই কপিরাইটিং এর দরকার বেশি পড়ে। কপিরাইটিং এর মাধ্যমে কোনো প্রোডাক্ট সম্পর্কে এমন ধরনের কনটেন্ট লেখা হয় যাতে সেটি দেখে বা পড়ে একজন কাস্টোমার সেই পরিষেবা বা প্রোডাক্ট পারচেজ অর্থাৎ কিনতে আগ্রহী হয়।

সোজা কথায় বললে, অ্যাড রাইটিং এবং মার্কেটিং করার জন্য কপিরাইটিং দরকার হয়। একটা কথা পরিষ্কার আপনি যদি কপিরাইটিং এর স্কিল শিখতে পারেন তাহলে আপনার কাজ পাওয়ার কোনো সমস্যা হবে না। কেননা বিভিন্ন কোম্পানি সবসময় একজন দক্ষ কপিরাইটিং এর খোঁজ করে।

কপিরাইটিং শেখার সময় এর সাথে যুক্ত আরো বেশ কিছু স্কিল শিখতে হয়। ক্রিয়েটিং রাইটিং (Creative Writing), গ্রামার (Grammar), কমিউনিকেশন স্কিল (Communication Skill), ভোকাবুলারি (Vocabulary) ইত্যাদি।

কপিরাইটিং শেখার পর আপনি চাইলে যেকোনো কোম্পানিতে পারমানেন্ট স্যালারি বেসিসে জব করতে পারেন। জব না করতে চাইলে আপনি ফ্রিল্যান্সিং করেও টাকা ইনকাম করতে পারেন।

(2) ডিজিটাল মার্কেটিং (Digital Marketing)

ছোটো, বড়ো, মাঝারি সকল ব্যবসায়ীরাই এখন তাদের ব্যবসা অনলাইনে নিয়ে যেতে চাই। কেউই কোনো পরিষেবা এবং প্রোডাক্ট সেল করার জন্য অধিক সময় নষ্ট সময় নষ্ট করতে চাইছে না। আর এখানেই ডিজিটাল মার্কেটিং তাদের ব্যবসার উন্নতিতে দারুনভাবে সাহায্য করছে।

ডিজিটাল মার্কেটিং এর মধ্যে মার্কেটিং এর কথা শুনে আপনি আবার একে তুচ্ছ কাজ বলে মনে করবেন না। কেননা ইন্টারনেটের এই ডিজিটাল যুগে বিগত কয়েক বছরে ডিজিটাল মার্কেটিং এর ব্যাপক চাহিদা বেড়েছে। অনেকেই ডিজিটাল মার্কেটিং এর কাজ করে বাড়িতে বসেই প্রচুর টাকা কামাই করছে। আগামী বছরেও এই কাজের চাহিদা বাড়তে চলেছে। এই বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই।

ডিজিটাল মার্কেটিং এর মধ্যে বেশ কিছু কাজ রয়েছে যেগুলি এক এক করে আপনি শিখতে পারেন এবং কাজ শুরু করে দিতে পারবেন। এগুলি হলো- SEO, SEM, SMM, Email Marketing, Influencer Marketing ইত্যাদি।

আর একটি কথা বলতেই হয়, ডিজিটাল মার্কেটিং শিখে আপনি ফ্রিল্যান্সিং করে বা চাকরি (Job) করে এমনকি নিজের একটি ডিজিটাল মার্কেটিং এজেন্সি খুলেও প্রচুর টাকা ইনকাম করতে পারেন।

(3) ডাটা অ্যানালিস্ট (Data Analyst)

সৌদি আরব বা দুবাই এরা কিসের জন্য এতো বড়োলোক? আপনি জানেন অবশ্যই, খনিজ তেলের জন্য। অনেক অর্থনীতিবিদ দের দাবী আগামি বছরে যার কাছে বেশি Data বা তথ্য থাকবে সে হবে ধনী। তাই আপনি অবশ্যই ডাটা অ্যানালিস্ট এর কাজের বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা অবশ্যই বুঝতে পারছেন।

Data-তে পার্সোনাল, প্রফেশনাল, ফিনান্সিয়াল, মার্কেট প্রভৃতি ধরনের তথ্য থাকে। একজন ডাটা অ্যানালিস্টের কাজ হচ্ছে এই ধরনের তথ্য গুলিকে বিশ্লেষন করে নির্দিষ্ট কোনো কোম্পানির কাজে ব্যবহার করতে সাহায্য করা।

আপনি চাইলেই ডাটা অ্যানালিস্টের কাজ শিখতে পারেন। বিভিন্ন নামিদামি কোম্পানি সবসময় একজন দক্ষ ডাটা অ্যানালিস্টের সন্ধান করে থাকে। এখন প্রশ্ন হলো এটি কোথায় শেখা যাবে।

আপনি যদি ডাটা অ্যানালিস্ট (Data Analyst) এর স্কিল শিখতে চান তাহলে আমি বলবো প্রথমে আপনি ইউটিউব থেকে ডাটা অ্যানালিস্ট এর কাজের বেসিক নলেজ জেনে নিন।

তারপর অনলাইন বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে কিছু কোর্স করুন। এতে আপনার দক্ষতা আরো বাড়বে। অনলাইনে Upgrad, Skillshare ইত্যাদিতে পেইড (Paid) সার্টিফিকেট কোর্স করে নিতে পারেন। কোর্স শেষে যে সার্টিফিকেট পাওয়া যাবে তা জব পাওয়ার জন্য আপনার কাজে আসবে।

(4) গ্রাফিক্স ডিজাইন (Graphics Design)

প্রতি মাসে ১ লাখ টাকা ইনকাম করার জন্য গ্রাফিক্স ডিজাইন এর স্কিলকেও আমি লিস্টে রেখেছি। কেননা বর্তমান সময়ে তো বটেই আগামী সময়েও গ্রাফিক্স ডিজাইনের কাজের চাহিদা কমবার নয়। তাই আপনিও এটি চাইলে ট্রাই করতে পারেন।

প্রাথমিক লেভেল হোক কিংবা অ্যাডভান্সড লেভেল, গ্রাফিক্স ডিজাইন এর স্কিল থাকলেই যেকেও টাকা ইনকাম করা শুরু করতে পারে। গ্রাফিক্স ডিজাইন (Graphics Design) এর মধ্যে ওয়েবসাইট ডিজাইন, লোগো ডিজাইন, পোস্টার ডিজাইন সহ ইত্যাদির কাজ পড়ে।

Adobe Illustrator, Adobe Photoshop, After Effect ইত্যাদি শিখে নিলেই গ্রাফিক্স ডিজাইন এর যেকোনো প্রোডাক্টিভ কাজ শুরু করা যেতে পারে। এইসমস্ত কাজগুলি করে আপনাকে একটি পোর্টফলিও (Portfolio) বানাতে হবে। এটি যেকোনো কোম্পানিতে গ্রাফিক্স ডিজাইন এর কাজ বা চাকরি (Job) পেতে আপনাকে সাহায্য করবে।

NFT তেও গ্রাফিক্স ডিজাইন (Graphics Design) এর কাজের চাহিদা বাড়তে চলেছে। NFT একটি সম্পূর্ন নতুন কনসেপ্ট তাই আগামী সময়ে এতে গ্রাফিক্স ডিজাইনকে কাজে লাগালে কি পরিমান টাকা ইনকাম করা যায় তা চিন্তার বাইরে।

(5) ইনফ্লুয়েন্সার ম্যানেজমেন্ট (Influencer Management)

ইনফ্লুয়েন্সার ম্যানেজমেন্ট এমন একটি কাজ যা খুব লোকেই করছে। তাই এই কাজ করে অনেক বেশি লাভবান বা টাকা ইনকাম করা সম্ভব। ইনফ্লুয়েন্সার কি তা আমরা প্রথমে জেনে নিই।

সোজা কথায়, যাদের মাধ্যমে আমরা প্রভাবিত হই বা যারা আমাদের প্রভাবিত করতে পারে তাদের ইনফ্লুয়েন্সার বলা হয়। সে হোক সিনেমার কোনো নায়ক-নায়িকা বা সোশ্যাল মিডিয়া (ইউটিউব, ফেসবুক) এর কোনো পরিচিত মানুষ। উদাহরন দিয়ে বিষয়টা বুঝিয়ে দিই-

টিভিতে কোনো নায়ক বা নায়িকা বিশেষ কোনো সাবান বা শ্যাম্পুর অ্যাড (Ad) করলে আমরা সেগুলি ব্যবহার করার জন্য দোকান থেকে কিনে থাকি। এইভাবে তারা আমাদের উপর প্রভাব বিস্তার করেছে। তাই তাদের ইনফ্লুয়েন্সার বলা হয়। এতো গেলো ইনফ্লুয়েন্সার এর কথা। এবার আসি ইনফ্লুয়েন্সার ম্যানেজমেন্ট এর কথায়।

ইনফ্লুয়েন্সার ম্যানেজমেন্ট বলতে সোশ্যাল মিডিয়া অর্থাৎ ইউটিউব, ফেসবুকের বিভিন্ন ইনফ্লুয়েন্সারদের কাজকে ম্যানেজ করা। তাদের কাজকে সহজ করে দেওয়া। বলিউডের বিভিন্ন নায়ক বা নায়িকাদেরও একজন ম্যানেজার থাকে। তারা যেমন কাজ করে এখানেও একজন ইনফ্লুয়েন্সার ম্যানেজার হিসেবে ইনফ্লুয়েন্সার ম্যানেজমেন্ট এর কাজ করে।

আপনি চাইলে ম্যানেজমেন্ট এর স্কিল শিখে ইনফ্লুয়েন্সার ম্যানেজমেন্ট এর কাজ শুরু করতে পারেন। এরজন্য একটু সময় লাগবে। ছোটো পরিসরে কাজ শুরু করে পরে আপনি বড়ো কোনো ইনফ্লুয়েন্সার এর কাজ করতে পারেন। এই কাজেও প্রচুর টাকা কামাই এর সুযোগ আছে।

সবশেষে,

5 টি স্কিল যা শিখতে পারলে প্রতি মাসে 1 লক্ষ টাকা ইনকাম নিয়ে লেখা আজকের প্রতিবেদনটি আজ শেষ হলো। আশা করছি আজকের এই আর্টিকেল টপিক থেকে আপনি নতুন কিছু জানতে পেরেছেন। আপনার যদি প্রতি মাসে ১ লাখ টাকা ইনকাম করার টার্গেট থাকে তাহলে উপরে বলা ৫ টি স্কিলের মধ্যে যেকোনো একটি ধরে শিখতে থাকুন, কাজ করুন।

নির্দিষ্ট কোনো একটি স্কিল শিখতে চাইলে এবং কাজ করতে চাইলে প্রথমেই আপনি ঐ কাজ সম্পর্কে ইন্টারনেট অর্থাৎ ইউটিউব বা গুগল থেকে ভালো করে জেনে ও শিখে নেবেন। বর্তমানে ফ্রিতে যেকোনো বিষয়ে শেখার শ্রেষ্ঠ মাধ্যম হচ্ছে ইউটিউব।

এইধরনের কর্মমূখী স্কিল সম্পর্কে, ইনকাম করার বিষয়ে, ব্যবসার আইডিয়া নিয়ে এবং টাকা পয়সার বিষয়ে নতুন নতুন তথ্য জানতে চাইলে আবশ্যই আমাদের ওয়েবসাইট নিয়মিত ভিজিট করবেন।

Previous articleসাইড ইনকাম করার 12 টি উপায়- বাড়ি থেকেই শুরু করা যাবে এইসব কাজ | Side Income Ideas- Work from Home
Next articleসরকারি স্কুল শিক্ষক কিভাবে হওয়া যায় | How to Become School Teacher in Bengali