সবথেকে লাভজনক ব্যবসার আইডিয়া | Business Ideas in Bengali 2022

আজকে আমরা ভারতের সবথেকে লাভজনক ব্যবসার আইডিয়া গুলির সম্পর্কে আলোচনা করব। আপনার যদি নতুন একটি ব্যাবসা শুরু সম্পর্কে প্রশ্ন থাকে তাহলে আজকের এই Business Ideas in Bengali পোষ্টটি আপনাকে সাহায্য করবে।

কখনো কখনো নতুন কোনো ব্যবসা সম্পর্কে সম্পূর্ন না জেনে শুরু করাটা ঝুকি পুর্ণ হয়ে যায়। আপনি এখন লক্ষ করবেন ভারতে বিভিন্ন নতুন নতুন স্টার্ট আপ বা ব্যবসা ভীষনভাবে জনপ্রিয় হচ্ছে। এমনকি সরকারও চাকরি করার পরিবর্তে নতুন ব্যবসা শুরু করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করার জন্য যুবকদের উৎসাহিত করছে।

এমন অনেক ব্যবসা আছে যেগুলোতে কম্পিটিশন বেশি কিন্তু ঝুকি কম এবং বেশ কিছু ব্যবসা রয়েছে যেগুলিতে ঝুকি বেশি কিন্তু বর্তমান বাজারে কম্পিটিশন খুবই কম। এক্ষেত্রে আপনি কোন ধরনের ব্যবসা করতে পারেন তার একটি ধারনা বা আইডিয়া নিচের থেকে জেনে নিতে পারবেন।

Profitable Business Ideas in Bengali

Profitable Business Ideas in Bengali 2022

এইবার আমরা নিচে এক এক করে বর্তমানে লাভজনক কিছু Business Ideas in Bengali সম্পর্কে আলোচনা করেছি। আপনি আপনার ইচ্ছা এবং সামর্থ্য অনুযায়ী এর মধ্যে যেকোনো একটিকে নির্বাচন করে ব্যবসার কাজ শুরু দিতে পারেন।

১. ব্লগিং (Blogging)

আপনার যদি কোনো একটি বিষয়ে যথেষ্ট ভালো জ্ঞান থাকে এবং আপনি Passionate থাকেন তাহলে ব্লগিং থেকে টাকা ইনকাম করতে পারবেন। এক্ষেত্রে আপনাকে লিখতে ভালবাসতে হবে। যারা জানেন না তাদের জানিয়ে দিই, ব্লগিং হল অনলাইনে লেখা এবং তা থেকে টাকা ইনকাম।

ব্লগিং এর জন্য আপনাকে ধৈর্যশীল হতে হবে। কেননা এটি থেকে প্রথম দিন থেকেই প্রচুর টাকা ইনকাম করা যাবে না। তবে রেগুলার কাজ করলে এবং সময় দিলে একটা সময় আপনি এটিকে ব্যবসার মতো কাজে লাগিয়ে ভালো টাকা ইনকাম করতে পারবেন।

গুগল অ্যাডসেন্স, অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং, স্পনশরশিপ, গেষ্ট পোষ্টিং সহ আরো অন্যান্য মাধ্যমে আপনি ব্লগিং থেকে টাকা ইনকাম করতে পারবেন। অনেকেই এখন ব্লগিং করে বেশ ভালো টাকা ইনকাম করছে। আমি নিজেও ব্লগিং করে মাসে ভালোই টাকা রোজগার করছি।

২. ডিজিটাল মার্কেটিং (Digital Marketing)

বর্তমান সময় অনলাইনের। যেকোনো ব্যবসার উন্নতির জন্য এখন অনলাইনের সাহায্য প্রয়োজন। ডিজিটাল মার্কেটিং হল অনলাইনের মাধ্যমে যেকোনো ব্যবসার উন্নতি করার প্রক্রিয়া।

আপনি নিজে ডিজিটাল মার্কেটিং শিখে নিয়ে কাস্টমারদের জন্য কাজ শুরু করতে পারবেন। যখন আপনার কাস্টোমার এর সংখ্যা বাড়বে তখন এই কাজের সাথে যুক্ত কিছু লোককে নিয়ে আপনি ডিজিটাল মার্কেটিং এর ব্যবসা শুরু করে দেবেন।

সত্যি বলতে কি, এখন অনেকেই এই ডিজিটাল মার্কেটিং এর কাজ বা ব্যবসা করেই বাড়িতে থেকেই লক্ষ লক্ষ টাকা ইনকাম করছে। অনলাইনে বিভিন্ন কোর্স জয়েন করে ডিজিটাল মার্কেটিং খুব সহজেই শিখতে পারবেন।

৩. গ্রাফিক্স ডিজাইন (Graphics Design)

গ্রাফিক্স ডিজাইন এর কাজেরও বর্তমানে দারুন চাহিদা রয়েছে। আপনি যদি ছবি আকতে পছন্দ করেন তাহলে সুবিধা হয়। যদি না জানেন বা নাকরেন তবেও কোনো সমস্যা নেই। কেননা এখন অনলাইনের যুগে যে কেও গ্রাফিক্স ডিজাইনের কাজ শিখতে পারে। এক্ষেত্রে ইচ্ছা থাকাটাই মেন বিষয়। Adobe Illustrator, Visme, Stencil ইত্যাদির মাধ্যমে গ্রাফিক্স ডিজাইন এর কাজ শেখা যাবে।

এমন অনেক সংস্থা রয়েছে যারা তাদের কাজের প্রয়জনে বিভিন্ন গ্রাফিক্স ডিজাইন দের কাজ বা চাকরি দিয়ে থাকে। এক্ষেত্রে আপনি গ্রাফিক্স ডিজাইন এর কাজকে ব্যবসা হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত করতে পারবেন। যেখানে আপনি নিজে এবং আরো কয়েকজন গ্রাফিক্স ডিজাইন দের কাজের নিযুক্ত করে কাস্টোমারদের জন্য কাজ করতে পারেন।

৪. রিটেল ব্যবসা (Retail Business)

আপনি যদি তৈরি Products সরাসরি কনজিউমারদের বিক্রি করতে চান, তাহলে রিটেল বিজনেস আপনার জন্য। এক্ষেত্রে থার্ড পার্টি কারো হস্পক্ষেপ না থাকায় আপনার লাভের পরিমাণও বেশি হবে।

কাপড়ের দোকান থেকে শুরু করে বিউটি প্রোডাক্ট, গ্রোসারি প্রোডাক্ট ইত্যাদির দোকান খুওতে পারেন। তবে যেকোনো ব্যবসা শুরু করার আগে সঠিক জায়গা নির্বাচন করতে হবে। সেইসাথে দরকার মার্কেটিং কৌশল।

৫. ওয়েব ডিজাইনিং (Web Designing)

এখন যে কেও তার কাজের বা ব্যবসার জন্য একটি ভালোমানের ওয়েবসাইট বানাতে চাইছে। এক কথায় যেকোনো ব্যবসা, প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ওয়েবসাইট বানানোর দরকার পড়ছে।

আর এই সুযোগকে আপনি দারুনভাবে কাজে লাগাতে পারেন। বিভিন্ন সংস্থাগুলি ভালো একটি ওয়েবসাইট বানানোর জন্য ওয়েব ডেভেলপারের খোঁজ করছে। আপনি যদি ওয়েব ডিজানিং এর কাজ করতে পারেন তাহলে আপনার কাজের সমস্যা হবে না।

এমনকি আপনি কোনো একটি কোম্পানির হয়ে পার্ট টাইম হিসেবে চাকরির করেও ভালো টাকা আয় করতে পারবেন। এই চাকরির পাশাপাশি আপনি অন্যান্য বিভিন্ন কোম্পানির বা সংস্থার জন্যও কাজ করতে পারেন। এইভাবে কাজটা আপনার ব্যবসারূপে বিবেচিত হবে।

৬. বিবাহ প্ল্যানিং ব্যবসা (Wedding Planning Business)

সাধারন এবং দুই দিনের বিবাহ পদ্ধতি ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। বিগত কয়েক বছরে Destination বিবাহ রীতি শুরু হয়েছে। শহর এলাকায় এই বিবাহ পদ্ধতি বেশি জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। ছোটো শহর এবং গ্রামীন এলাকায় এর প্রচলন হয়নি।

Weeding Planning বিজনেস ছোটো অঙ্কের টাকা দিয়েও শুরু করা যায়। আস্তে আস্তে পরিচিতি বাড়লে ব্যবসাও বড়ো হয়ে যাবে। একবার যদি এই ব্যবসাকে দাড় করাতে পারেন তাহলে আর পিছন ফিরে তাকাতে হবে না।

ভারতের ‘Big Fat Indian Wedding’ নামের কোম্পানীর বর্তমান বাজার মূল্য হচ্ছে 30-40 মিলিয়ন ডলার। প্রতি বছর এর বাজার মুল্য 20-40% বেড়েই চলেছে। এইবার আপনি বুঝতেই পারছেন যে, এই ব্যবসা কতটা লাভজনক।

৭. Content Creation Agency

বিভিন্ন কোম্পানিগুলি তাদের ব্যবসার কাজের জন্য বিভিন্ন ধরনের কনটেন্ট বানিয়ে থাকে। এর জন্য তারা হয়ত কোনো একজন লোকের উপর অথবা নামকরা একটি কনটেন্ট ক্রিয়েশন এজেন্সির উপর নির্ভর থাকে।

আপনি যদি ভালো লিখতে বা ভিডিও বানাতে পারেন তাহলে এই কাজ করেও টাকা ইনকাম করতে পারবেন। কাজের পরিমান বেড়ে গেলে আপনি আরো কয়েকজন কনটেন্ট ক্রিয়েটারদের নিয়োগ করে শুরু করে দিতে পারেন Content Creation Agency। সত্যিই এখন Content Creation এর কাজের ভীষন চাহিদা রয়েছে। আগামী দিনে যা আরো বাড়তে চলেছে। এই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে নিজের ব্যবসা শুরু করতে পারেন।

৮. হোম টিউশন ব্যবসা (Home Tuition Business)

আপনার যোগ্যতা যদি ন্যুনতম গ্র্যাজুয়েশন পাশ হয়ে থাকে এবং যেকোনো একটি বিষয়ে পারদর্শী হন তাহলে হোম টিউশন আপনার জন্য ভালো পার্ট টাইম ব্যবসা হতে পারে। আপনার পড়াশোনা, চাকরি বা অন্যান্য কাজের পাশাপাশি এটি করতে পারেন।

এখন প্রত্যেক পিতামাতা তাদের বাচ্চাদের ভালো শিক্ষা দেওয়ার জন্য ছেলে অথবা মেয়েদের কাছে পড়াতে চাই। তাছাড়া অনেক বাবা-মা তাদের ছেলে বা মেয়েকে সময় দিতে না পারায় একজন হোম টিউটর এর খোঁজ করে। এক্ষেত্রে যেকোনো একটি বিষয়ে দক্ষ হয়ে আপনি টিউশন শুরু করতে পারবেন।

ধরুন আপনি একটি ব্যাচে ২০ জন স্টুডেন্ট পড়াচ্ছেন। একজনের কাছ থেকে চার্জ করছেন 400 টাকা তাহলে আপনার মাসিক ইনকাম কত হবে? ৮০০০ টাকা তাইনা। স্টুডেন্ট সংখ্যা বাড়াতে পারলে আপনার ইনকামও বেড়ে যাবে। আপনার যদি মনে আপনি একটি কোচিং শুরু করবেন তাহলে অন্যান্য বিষয়ের শিক্ষকদেরকেও পড়ানোর কাজে নিযুক্ত করে হোম টিউশন ব্যবসা শুরু করতে পারেন।

৯. ব্রেকফাস্ট বিজনেস (Breakfast Business)

খুব কম পুজিতে একটি ভালো ব্যবসা হচ্ছে খাবারের দোকান দেওয়া। এক্ষেত্রে ঐ দোকানটি এমন জায়গায় দিতে হবে যেখানে লোকজন বেশি থাকে। অনেকেই আছে যারা তাড়াহুড়ো করে চাকরি বা কাজের জন্য বেড়িয়ে যান এবং বাইরে ব্রেকফাস্ট (সকালের খাবার) করে।

এই ব্যবসায় টাকা যেমন কম লাগে তেমনি লাভের পরিমানও খুব বেশি। এই ব্যবসা যে সকলকেই করতে হবে তা না। যদি কারো ইচ্ছা থাকে এবং তেমন কোনো জায়াগার সন্ধান পায় তাহলে এই ব্যবসা শুরু করতে পারে। মনে রাখবেন কিছু না করার থেকে কিছু একটা করা অনেক ভালো।

১০. মোবাইল রিপেয়ারিং ব্যবসা (Mobile Repairing Business)

আজকের দিনে সকলেই মোবাইল ফোন ব্যবহার করছে। তাই আমাদের জীবনে মোবাইল একটি নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসে পরিনত হয়েছে। মোবাইল ফোন ব্যবহার যেমন বাড়বে ঠিক তেমনি কোনো না কোনো দিন তো তা খারাপ হবেই। আপনার মোবাইলও হয়ত কোনো একদিন খারাপ হয়েছে।

আপনি যদি একটি মোবাইল রিপেয়ার করার দোকান (Shop) খুলতে চান তাহলেও কিন্তু ভালো অঙ্কের টাকা কামাতে পারবেন। তবে দোকান শুরু করার আগে আপনাকে একটু সময় দিয়ে মোবাইল রিপেয়ারিং কাজের কোর্স করতে হবে। একবার কোর্স সম্পূর্ন করে দোকান দিয়ে ভালো কাজ করতে পারলেই টাকা ইনকাম করা থেকে আপনাকে আটকায় কে।

বর্তমান সময়ে ভালো মোবাইল রিপেয়ার করার দোকানের খুব অভাব। তাই এই ব্যবসা করে অনেকেরই মোটা টাকা ইনকাম করার সুযোগ থাকছে।

আমরা আজ যা জানলাম

আমি আশা করছি, আপনি লাভজনক ব্যবসার আইডিয়া (Business Ideas in Bengali) গুলি থেকে অনেক ব্যাবসা সম্পর্কে জানতে পেরেছেন। আপনি যদি আগামী দিনে এইরকমই কোনো ব্যবসা শুরু করতে চান তাহলে এখান থেকে আইডিয়া নিয়ে যেকোনো একটি ব্যবসায় সময় দিতে পারেন।

আমাদের এই লেখাটি পড়ে আপনার যদি কিছু লাভ হয়ে থাকে তবে আপনার নিকটবর্তী আত্মীয়, বন্ধুদের সাথে অবশ্যই শেয়ার করে দেবেন। আর হ্যা, আগামী দিনে অনলাইন ইনকাম, কেরিয়ার, নতুন কোনো ব্যবসার আইডিয়া সম্পর্কে জানার জন্য আমাদের ওয়েবসাইট নিয়মিত ভিজিট করতে ভুলে গেলে হবে না।

Previous articleশুধুমাত্র সরকারি চাকরির প্রস্তুতি নেওয়া কি ঠিক?
Next articleগুগল (Google) থেকে টাকা ইনকাম করার উপায় 2022