4 টি পার্ট টাইম কাজ, শুরুতে ১৫-২০ হাজার টাকা মাসিক ইনকাম

4 টি এমন পার্ট টাইম কাজের বিষয়ে আজকে জানাবো যা থেকে প্রতি মাসে শুরুতে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা ইনকাম করা সম্ভব। যারা কোনো কাজের পাশাপাশি অবসর সময়ে পার্ট টাইম কাজ থেকে অতিরিক্ত টাকা ইনকাম করতে চায় তাদের জন্য আজকের এই আর্টিকেল।

আমরা প্রতিদিন কতটা সময় নষ্ট করি? সেটা হতে পারে সোশ্যাল মিডিয়ায় অথবা বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেওয়ার মাধ্যমে। একটা কথা মাথায় রাখবেন, টাকা ইনকাম করার জন্য কাজ করতেই হবে। সেটা যাই হোক না কেনো। আজকে যে 4 টি পার্ট টাইম কাজের কথা বলবো সেগুলি যেকোনো ব্যবসার পাশাপাশি, চাকরি করতে করতে অথবা অন্য কোনো কাজের পাশাপাশি করা যাবে।

শুধু তাই নয় যারা পড়াশোনা করছে অর্থাৎ ছাত্রছাত্রীরাও এই কাজগুলি শুরু করতে পারবে। বর্তমান ভারতের বেকারত্বের সময়ে বিশেষ করে ছাত্রছাত্রীদের জন্য এগুলি টাকা ইনকামের বিশেষ কার্যকরী মাধ্যম হতে পারে।

পার্ট টাইম কাজ করে টাকা ইনকাম

4 Part Time Work and earn 15 to 20 Thousand

নিচে বলা চারটি পার্ট টাইম কাজের জন্য প্রতিদিন নিয়মিত কিছুটা সময় দিতে হবে। তবেই আপনি ছয় মাস বা এক বছরের মধ্যে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা ইনকাম করা শুরু করে দিতে পারবেন। তবে পরে এই ইনকামের পরিমান নির্বাচিত কাজের ধরন অনুযায়ী বাড়বে, আর এই কথাটা নিশ্চিত।

নিচে বলা চারটি কাজের মধ্যে যেটি আপনার পছন্দ সেটি নিজের ইচ্ছা অনুযায়ী নির্বাচন করতে হবে। তারপর রেগুলার প্রতিদিন কিছুটা সময় বের করে ঐ নির্দিষ্ট কাজটি করতে হবে। তারপরেই আপনি একটা সময় পরে টাকা ইনকাম করা শুরু করতে পারবেন।

এইবার নিচে এমন চারটে পার্ট টাইম কাজের কথা বলা হবে সেগুলি যে কেউ চাইলে শুরু করতে পারবে। চলুন এইবার একে একে এগুলি সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক-

(1) পেইং গেস্ট (Paying Guest)

Paying Guest (পেইং গেস্ট) বলতে নিজের কোনো ফাঁকা ঘর ভাড়া দেওয়াকে বোঝায়। এমন অনেক লোক থাকে যারা তাদের ঘরকে ভাড়া দিয়ে প্রতি মাসে কিছু টাকা ইনকাম করতে চাই। তাদের জন্য এটি টাকা ইনকামের পার্ট টাইম কাজ হতে পারে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে কারা ঘর ভাড়া নেবে এবং ভাড়াটে কিভাবে খুজতে হবে।

পড়াশোনা করার জন্য, চিকিৎসার জন্য অথবা বেড়াতে গিয়ে অনেকেই এমন কোনো ঘর খোজেন যেগুলি কম খরচে ভাড়া পাওয়া যায়। েই সমস্ত লোককে খুজে বার করে তাদেরকে নিজেদের ঘরকে হোটেলের মতো ভাড়া দেওয়া যাবে।

বর্তমানে এমন অনেক অনলাইন প্ল্যাটফর্ম আছে যেগুলির মাধ্যমে সহজেই ভাড়াটে খুজে পাওয়া সম্ভব। Ainbnb, Outdoory, Flipkey ইত্যাদিতে রেজিস্টার করে পেইং গেস্ট এর জন্য ঘর ভাড়া দেওয়ার জন্য রেজিস্টার করা যেতে পারে।

যাদের ঘর ভাড়া দরকার তারা এই সমস্ত প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে এসে আপনার ঘর ভাড়া নিতে পারবে। এটা গেলো অনলাইনের মাধ্যমে পেইং গেস্ট এর জন্য ভাড়াটে খোঁজা। অফলাইনের মাধ্যমেও ভাড়াটে পাওয়া যাবে। এর জন্য মানুষের সাথে কানেকশন বাড়াতে হবে এবং সেইসাথে রাস্তায় ছোটো খাটো পোস্টার দিতে হবে।

(2) ইনভেস্টমেন্ট থেকে টাকা ইনকাম (Earn Money From Investment)

টাকা ইনভেস্ট করেও টাকা ইনকাম করা সম্ভব। টাকা ইনভেস্ট করেও যে টাকা ইনকাম করা যায় এটি শুনে আপনি অবাক হতে পারেন। কিন্তু বাস্তবে এটি করে অনেক লোক প্রতি মাসে প্রচুর টাকা ইনকাম করছে। আমাদের মধ্যে ইনভেস্ট সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান না থাকায় আমরা টাকা ইনভেস্ট এর কথা শুনলেই ভয় পেয়ে যায়।

Stocks, Mutual Fund, Equity ইত্যাদিতে টাকা ইনভেস্ট করে টাকা ইনকাম করতে পারবেন। Stocks এবং Equity তে টাকা ইনভেস্ট করতে গেলে আপনার বেশ কিছু বিষয়ে জ্ঞান থাকা প্রয়োজন। তাই মিউচুয়াল ফান্ড (Mutual Fund) বর্তমানে টাকা ইনভেস্টমেন্টের সঠিক এবং নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হতে পারে।

মিউচুয়াল ফান্ডের ক্ষেত্রে একজন ফান্ড ম্যানেজার পুরো ফান্ড ম্যানেজ করে থাকে। ঐ ফান্ড ম্যানেজার একজন অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ব্যক্তি। তাই এক্ষেত্রে টাকা ইনভেস্ট নিয়ে মাথা ব্যথা করার প্রয়োজন নেই। আপনার সমস্ত কাজ ঐ ফান্ড ম্যানেজার করে দেবেন।

মিউচুয়াল ফান্ডে দুই রকমভাবে টাকা ইনভেস্ট করা যায়। ১. একসাথে প্রচুর পরিমানে টাকা ইনভেস্ট এবং ২. SIP (Systematic Investment Plan) অর্থাৎ প্রতি মাসে নির্দিষ্ট পরিমান টাকা ইনভেস্ট

(3) ক্লাউড কিচেন (Cloud Kitchen)

নিজের বাড়িতেই খাবার তৈরি করে তা অনলাইনের মাধ্যমে বিক্রি করাকেই ক্লাউড কিচেন বলা হয়। এরজন্য বিভিন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম যেমন- Zomato, Swiggy ইত্যাদিতে রেজিস্টার করতে হয়।

ক্লাউড কিচেন শুরু করার মাধ্যমে নিজের আলাদা একটি ব্র্যান্ড তৈরি করা সম্ভব। Domino’s, Pizzahut, McDonald’s ইত্যাদির মতো ব্র্যান্ড তৈরি করার ইচ্ছা থাকলে ক্লাউড কিচেন দিয়েই নিজের ব্যবসার ভিত তৈরি করা অনেক জরুরি।

নিজের ক্লাউড কিচেন শুরু করার জন্য নিচের কয়েকটি স্টেপ ফলো করতে পারেন-

১. খাবার নির্বাচন (Selection of Food)

২. ব্র্যান্ডিং (Branding)

৩. বাড়িতেই কিচেন (রান্নাঘর) তৈরি

৪. Zomato, Swiggy ইত্যাদির মতো অনলাইন প্ল্যাটফর্মে রেজিস্টার

(4) গাড়ি ভাড়া (Car Rental)

ছোটো বা মধ্যম কোনো শহর এলাকায় এমনকি গ্রামীণ এলাকাতেও গাড়ি ভাড়ার ব্যবসা করে টাকা ইনকাম করা সম্ভব। বড়ো বড়ো শহরগুলিতে Ola, Uber ইত্যাদির চাহিদা বেশি থাকায় সেখানে এই ব্যবসার কাজ অতটা ফলপ্রদ হবে না। তবে বড়ো শহরে করা যাবে না, এমন কিন্তু না। সেক্ষেত্রে লাভ কম হবে।

এখন আপনার মনে প্রশ্ন হতে পারে- এর জন্য কি নিজের গাড়ি থাকা জরুরী? আমি বলবো না। এর জন্য আপনার নিজস্ব কোনো গাড়ি থাকার প্রয়োজন নেই। কিভাবে গাড়ি ভাড়ার ব্যবসা বা Car Rental Business করা যাবে বলছি।

আপনার বাড়ির আশেপাশে বা কাছাকাছি এমন অনেক লোক আছে যাদের নিজস্ব গাড়ি আছে এবং যারা তাদের গাড়ি ভাড়া দেয়। তাদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে এবং তাদের জন্য ক্লায়েন্ট বা খদ্দের খুজে দেওয়ার কাজ আপনাকে করতে হবে। ক্লায়েন্ট খুজে দেওয়ার পর নির্দিষ্ট পরিমান টাকা কমিশন হিসেবে ঐ গাড়ির মালিকের সাথে চার্জ করবেন।

এই কাজটি পার্ট টাইম হিসেবে করা যাবে। এর জন্য আপনি আপনার অবসর সময়কে কাজে লাগিয়ে এমন কাজ করতে পারবেন। আপনি যেই কাজ করেন না কেন তার পাশাপাশি এই কাজ করতে পারবেন। তাছাড়া আপনার যদি অন্য কোনো কাজ না থাকে তাহলে আরো ভালো করে এটি করতে পারবেন।

অবশেষে,

4 টি পার্ট টাইম কাজ যা থেকে শুরুতে প্রতি মাসে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা মতো ইনকাম করা যায়- এই টপিক নিয়ে লেখা আজকের এই আর্টিকেলটি সমাপ্ত হলো। আশা করছি এই পার্ট টাইম কাজগুলি সম্পর্কে আপনার ভালো একটি ধারনা হয়েছে।

উপরে আলোচিত ৪ টি পার্ট টাইম কাজের মধ্যে আপনার পছন্দ অনুযায়ী একটিকে নির্বাচন করে কাজ শুরু করে দিতে পারেন। একটি কথা আবারো জানিয়ে রাখি, যে কাজটিই আপনি করেন না কেনো সেটি কয়েক মাস প্রতিদিন করবেন। একটা সময়ে আপনি অবশ্যই ভালো টাকা ইনকাম করতে পারবেন।

টাকা ইনকাম করা সম্পর্কিত বিভিন্ন উপায়গুলি জানতে আগ্রহী থাকলে আমাদের ওয়েবসাইটে নিয়মিত ভিজিট করবেন।

Previous articleহোয়াটসঅ্যাপ (WhatsApp) থেকে টাকা ইনকাম- সম্পূর্ন প্রক্রিয়া বাংলায়
Next articleঘরে বসে ইন্টারনেট থেকে অনলাইনে কিভাবে ইনকাম করা যায়?